৮ নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, প্রশাসনিক ভবনে তালা
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের আটজন কমিশনার উপাচার্যের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন।
নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ অবস্থায় আটজন শিক্ষক ইতিমধ্যে কমিশনারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। এ ছাড়া বিএনপিপন্থী ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষকও নির্বাচনী দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ মো. আতিকুল হক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. খায়রুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শাকসু নির্বাচন কমিশনে মোট ১৫ জন কমিশনার ছিলেন, এর মধ্যে ৮ জন আজ দুপুরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কমিশনারদের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আবদুল কাদিরের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কেনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, তবে পদত্যাগপত্র উপাচার্যের কার্যালয়ে আছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে।
কোন আটজন শিক্ষক নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার জন্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তা প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
তবে অধ্যাপক রেজোয়ান আহমেদ (শাওন) পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আর পালন করতে চাই না।’
এদিকে নির্বাচন যথাসময়ে করার দাবিতে আজ বেলা সাড়ে ১১টায় উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক সাস্ট চ্যাপটার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্যসচিব অধ্যাপক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। পরে বেলা দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে সংগঠনটির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল) সাস্ট চ্যাপটারের সদস্যসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি। রিটের রায় যদি শাকসু নির্বাচনের বিরুদ্ধে আসে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে দ্রুতই যাতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই সঙ্গে আমরা শিক্ষার্থীদের বলেছি, নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কোনো বিষয় নেই। নির্বাচন যথাসময়ে হতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে কিছু শিক্ষক অসহযোগিতা করছেন, তবে তাঁরা অসহযোগিতা করলেও নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। শাকসু নির্বাচন বানচাল কখনোই প্রত্যাশিত নয়, নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রস্তুত শিক্ষকেরা।’

Comments
Post a Comment