আগামী ১২ তারিখ নতুন ইতিহাস হবে: জামায়াতের আমির
শনিবার বিকেলে সিলেটে এক নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের আমির প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। নগরের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।
সিলেটবাসী নিজেদের খনিজ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে বঞ্চনা থাকবে না। সুপেয় পানি আর ড্রেনেজ–ব্যবস্থার উন্নতি করা হবে। প্রবাসীনির্ভর সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন। যদি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই হবে, তাহলে সব এয়ারলাইনসের ক্রাফট এখানে নামবে না কেন? আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে নয়, কামে পূর্ণাঙ্গ হবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিশেষ করে ইউকেতে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন, তাঁদের প্রায় ৯ ০ ভাগ সিলেটের বংশোদ্ভূত। ম্যানচেস্টার একটা গুরুত্বপূর্ণ হাব। সেখানে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট আসত-যেত। এখন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কেন? আমরা তো এগোব। পেছাচ্ছি কেন? আমরা কি চিংড়ি মাছের দৌড় শুরু করেছি? চিংড়ি মাছ দৌড়াতে শুরু করলে শুধু পেছনের দিকে যায়। আমরা তো সিংহের থাবা মেলে সামনে এগোতে চাই। রুট বন্ধ নয়, ওই রুট চালু করা হবে। আবার নতুন নতুন রুট করা হবে।’ এ সময় কোনো প্রবাসী মৃত্যুবরণ করলে তাঁর মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াতের আমির।
মদ, গাঁজা, সন্ত্রাস, অস্ত্রে এক দল সিলেটকে অস্থির করে রাখে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। আল্লাহ–তাআলা যদি আমাদের এই দেশের সেবকের দায়িত্ব দেন, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটির ওপরে কেউ আর চাঁদাবাজির সাহস করতে পারবে না। কারও ঘুষ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না এবং ঘুষ খাওয়ার সাহস হবে না। সম্মানের সঙ্গে সব নাগরিক বসবাস করার নিশ্চয়তা পাবেন। আজকে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে বেতন-ভাতা-সুবিধা দেওয়া হয়, সম্মানজনকভাবে জীবনযাপনের জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এটা ইনসাফভিত্তিক নয়, পর্যাপ্ত নয়। আগে তাঁকে সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে, এরপরে যদি লোভের বশবর্তী হয়ে কেউ অপরাধ করেন, অবশ্যই তাঁর অপরাধের বিচার হবে।’
বক্তব্যে নদী রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘সিলেটের নদীগুলো মরে আছে। বাংলাদেশের নদীগুলো মরে আছে। নদীবান্ধব হবে বাংলাদেশ। নদীর হক নদীকে দেওয়া হবে। নদীর পেট ভরিয়ে তোলা হয়েছে, দখল করা হয়েছে, গার্বেজ দিয়ে নষ্ট করা হয়েছে। বন্ধুদেশগুলোতে নদীগুলো যেভাবে জীবন পেয়েছে, বাংলাদেশের নদীগুলোকে সেভাবে জীবন দেওয়া হবে। সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা শুধু বইয়ের পাতায় যেন না থাকে, বাস্তবে যেন পাওয়া যায়—সেই সুরমা, কুশিয়ারা বানানো হবে।

Comments
Post a Comment